বর্ষায় অসুখ-বিসুখ

56
Kids-in-Rain-1
বৃষ্টিতে খেলায় মগ্ন শিশু

বর্ষা এসেছে। সাথে এনেছে ঘন কালো মেঘ। অঝোর বৃষ্টি।জল থৈ থৈ নদী। এনেছে কদম।তার পিছু পিছু এসে হাজির হয়েছে কিছু অসুখ-বিসুখ। একটু অসাবধান হলেই কিন্তু তোমার উপর চড়াও হবে তারা। তাই এ বর্ষায় নিতে বিশেষ যত্ন। অবশ্যই এ বিষয়ে তোমার পরিবার যথেষ্ট যত্নশীল। তাই বলে নিজের দায়িত্বটা ভুলো না।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্ষায় আবহাওয়া থাকে স্যাঁতসেঁতে। সঙ্গে হঠাৎ বৃষ্টি, ভ্যাপসা গরম, আবার ঠাণ্ডা বাতাসও হয়ে থাকে।এ আবহাওয়া রোগ-জীবাণুর জন্য বড়ই অনুকূল। এ সময়টাতে শিশুদের সর্দি-কাশি, ভাইরাস জ্বর, টাইফয়েড জ্বর, ডেঙ্গু জ্বর, ছত্রাক সংক্রমণ, ডায়রিয়াতে বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায়।

সর্দি-কাশি

সর্দি-কাশি ভাইরাসজনিত রোগ। বর্ষায় এই প্রচণ্ড গরম তো, ওই বৃষ্টি ও ঠাণ্ডা বাতাস। এমন আবহাওয়ায় শ্বাসতন্ত্র সহজেই সংক্রমিত হয়। দেখা দেয় সর্দি-কাশি। ফলে জ্বর, মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি-কাশি ইত্যাদি দেখা দেয়। সর্দি-কাশিতে ঘরোয়া দাওয়াই বেশ কার্যকর। আদা ও লেবুর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে কিংবা আঙুরের রস খাওয়ালে শিশুর কাশি অনেকটা কমে যাবে। সঙ্গে আদা, লেবু, পুদিনা পাতা দিয়ে রং চা, তুলসি পাতার রস ও মধু মিশিয়ে খাওয়ালেও শিশু আরাম পাবে। সর্দিতে নাক বন্ধ থাকলে লবণ জলের পানি কিংবা ‘ন্যাজাল ডিকনজেসট্যান্ট’ এক-দুই ফোঁটা দিয়ে নাক পরিষ্কার করা যেতে পারে।

ভাইরাস জ্বর

এই সময়ে হঠাৎ ভ্যাপসা গরমে শিশু ঘেমে যায়। মুছে না দিলে সেই ঘাম শরীরে বসে ভাইরাস জ্বর হয়। আবার বৃষ্টিতে ভিজেও এ জ্বর হতে পারে। ভাইরাস জ্বরে শিশুর শীত শীত ভাব, শরীর ব্যথা, মাথা ব্যথা, খাওয়ার অরুচি, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়াসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। অনেক শিশুর পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া বমিও হতে পারে। ভাইরাস জ্বর সাধারণত তিন থেকে পাঁচ দিনেই ভালো হয়ে যায়। তাই এ সময়টাতে কোনো ধরনের এন্টিবায়োটিক খাওয়ানো উচিত নয়। বরং এ সময়টাতে ঘরোয়া চিকিৎসা দিন। স্বাভাবিক পানিতে সুতি কাপড় ভিজিয়ে পুরো শরীর চেপে চেপে স্পঞ্জ করলে শিশুর জ্বর অনেকটাই কমে আসবে। সেই সঙ্গে ঘরের দরজা জানালা খুলে আলো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করে দিন। নানা রকম তরল খাবার যেমন-পানি, ঘরে তৈরি ফলের রস, সবজির স্যুপ এ সময় শিশুর জন্য আদর্শ খাবার। পাশাপাশি হারবাল চা, আদার রস, তুলসী পাতার রসও বেশ উপকারী।

ডেঙ্গুজ্বর

শিশুর শরীর ব্যথা, মাথা ব্যথা, জ্বর, অক্ষিকোটর ব্যথা, শরীরের হাড় ও মাংসে ব্যথা, চোখ ব্যথা ও পানি পড়া, বমি ইত্যাদি শিশুদের ডেঙ্গুজ্বরের প্রাথমিক লক্ষণ। অনেক সময় নাক দিয়ে ও মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, শরীরে রক্তিম আভা, রক্তবমিও হতে দেখা যায়। জ্বর কমানো জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ খাওয়ানো উচিত নয়। ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, জুস এ সময় শিশুকে বেশি বেশি খাওয়াতে হবে। ডেঙ্গু এড়াতে মশারি টানিয়ে ঘুমানো ভালো। এছাড়া বাড়ির আশপাশের টবে বা পড়ে থাকা পাত্রে যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

টাইফয়েড

টাইফয়েড একটি সংক্রমক রোগ। টাইফয়েডের বাহক মশা। এছাড়া আক্রান্ত রোগীর মলমূত্রও এ রোগের উৎস। ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এ জ্বর বেশি হতে দেখা যায়। পঁচা বাসি খাবার, দূষিত পানি, মাছির মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। রোগের প্রথম সপ্তাহে জ্বর, মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ও বমি হয়। তাপমাত্রা অনেক উঠে যায়। প্রথম সপ্তাহের শেষে শরীরে লাল দাগ, কাশি, পেট ফুলে যেতে পারে। লক্ষণে টাইফয়েড মনে হলে অবশ্যই চিকিৎকের কাছে নিতে হবে। কোনোভাবে উদাসীনতা দেখানো যাবে না। কারণ টাইফয়েড থেকে অনেক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ছত্রাক সংক্রমণ

বর্ষায় তীব্র গরমে ঘাম হয় গ্রীষ্মের চেয়েও বেশি। বাতাসে আদ্রাতা বেশি থাকায় ঘাম শুকায় না। আবার যখন তখন বৃষ্টি নামায় অনেক সময় অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে ভিজে যেতে হয়। ঘাম ও পানিতে শরীর বেশীক্ষণ ভেজা থাকলে অনেক সময় ছত্রাক সংক্রমণ দেখা দেয়। এতে আঙুলের ফাঁকে, কুঁচকিতে, মাথায় ও চুলে ছত্রাক সংক্রমণ হয়। আবার শিশুর পোশাক, বিছানা ভালো মতো রোদে না শুকালে এগুলোতে ড্যাম্প ভাব চলে এসেও শিশুর ত্বক সংক্রমিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ছত্রাকনাশক ক্রিম এবং চুলের জন্য বিশেষ শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশুর কানে ফাংগাস ইনফেকশনও দেখা দিতে পারে এ সময়। কাঠি, কটন বার, ক্লিপ প্রভৃতি দিতে কান চুলকানো উচিত নয়। ইনফেকশন যদি একান্তই ভালো না হয়, তাহলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

মন্তব্য