বালিঃ মুগ্ধতার হাতছানি

18

মুগ্ধ হওয়ার একটা অসাধারণ ক্ষমতা আছে পূর্ণতার। প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে পারলেই হয়। সামান্য একটা ফড়িং দেখেও সে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। ঘাস ফুল দেখে বলে ওঠে-আহ, কী সুন্দর! তাই প্রথম যখন সে ওয়াও বলে চিৎকার করে উঠল, আমি তাতে অবাক হইনি। বিষয়টিকে তেমন গুরুত্বও দেইনি।আমি তখন গাড়িতে বসে ড্রাইভারের দেওয়া একটা ব্রুসিয়ার পড়ছিলাম। একনজরে দেখে নিচ্ছিলাম বালি দ্বীপের দর্শনীয় জায়গাগুলোর ছবি।

আমার এই নির্লিপ্ততায় বোধহয় বিষ্মিত হল পূর্ণতা। হয়তো কিছুটা হতাশও। তাই গায়ে ধাক্কা দিতে শুরু করল সে।বলল, ‘বাবা, দ্যাখো না, কী সুন্দর জায়গা।বাধ্য হয়ে আমি মাথা তুলে তাকালাম। এবার আমার বিষ্মিত হওয়ার পালা।

সামনে অসাধারণ সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে বেনোয়া সমুদ্র। সমুদ্রের বুক চিরে চলে গেছে দীর্ঘ এক সেতু। অদ্ভুত সুন্দর তার ডিজাইন। নিজের অজান্তেই আমার মুখ থেকেও বের হয়ে এল-ওয়াও।

বালির দিনেসপার নগুরাহ রাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মাত্র ১০ মিনিট এসেছে আমাদের গাড়ি। আমরা এখন মান্দারা টোল সড়কের মুখে। সামনে বেনোয়া সমুদ্র। ডানে সমুদ্রের তীর ধরে চলে গেছে একটি সড়ক। বা দিকের সড়ক গিয়েছে নগুরাহ রাই বিমানবন্দর ও দিনেসপারের দিকে। সমুদ্রের উপর দিয়ে চলে গেছে ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ টোল সড়ক। নাম এর টোল সড়ক হলেও কার্যত এটি একটি দীর্ঘ সেতু। অনেকটা ফ্লাইওভারের মত। আর এর নকশায়ও আছে যথেষ্ট নান্দনিকতা। আমাদের ডানে-বায়ে অগভীর সমুদ্র। সেখানে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ পানির উপর বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আছে কিছু রঙিন নৌকা। এগুলো পেরোলে সামনে সমুদ্রের অথৈ জল। কিন্তু জলের গভীরতাকে তুচ্ছ করে এগিয়ে গেছে মান্দারা টোল রোড।

মান্দারা টোল রোড বালির অভিজাত এলাকা নুসা দোয়া, অন্যতম পর্যটন স্পট কুটা ও বেনোয়াকে নগুরাহ রাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দিনেসপারের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বালির উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে নিয়ে এসেছে পরস্পরের কাছাকাছি।মাত্র ২২ কোটি ডলার লেগেছে এটি বানাতে। বাংলাদেশী মুদ্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার মত।আমাদের মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের চেয়েও কম।

টোলবক্সে টাকা (রুপি) দিয়ে সেতুর উপরে উঠে এল আমাদের গাড়ি। এতক্ষণ এসি চলছিল। কারণ উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের এ দেশটিতে শীত ঋতু বলতে কিছু নেই। তাই ডিসেম্বরেও ছিল যথেষ্ট গরম। এসি বন্ধ করে গ্লাস নামিয়ে দিতে বললাম ড্রাইভারকে।গাড়ি তখন ৬০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে ছুটছে। তাই গ্লাস খুলে দিতেই তীব্রগতিতে বাতাস এসে হামলে পড়ল আমাদের উপর। ঝাপটা মারতে লাগল চোখে-মুখে। বাধ্য হয়ে আবার গ্লাস তুলে দিলাম। মনোযোগ দিলাম সমুদ্র ও টোল সড়কের দিকে। অপূর্ব, অসাধারণ দৃশ্য। সামনে দিগন্তবিস্তৃত সমুদ্র। কিছুদূর গিয়ে সেতুটি দুদিকে ভাগ হয়ে গেছে। একভাগ অনেকদূর গিয়ে ফের দিনেসপারে মিলেছে। অন্যভাগ ডানে ঘুরে চলে গেছে নুসা দোয়া এলাকার দিকে।

 

(চলবে)

 

মন্তব্য