দেশে বিদেশে

123

সৈয়দ মুজতবা আলী

সৈয়দ মুজতবা আলী’র ‘দেশে বিদেশে’-কে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ভ্রমণ-কাহিনী হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এর পূর্বে আর কোন ভ্রমণ-কাহিনী এতোটা পাঠক প্রিয় হয়নি। ‘দেশে বিদেশে’ শুধুমাত্র ভ্রমণ-কাহিনী নয়, অনেকের বিবেচনায় ‘দেশে বিদেশে’ ভ্রমণ-কাহিনী হয়েও সেই সময়কার (১৯২৭-১৯২৯) আফগান রাষ্ট্র ও সমাজের প্রামাণিক দলিল।

সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯২৭ সালে আফগানিস্থানে গিয়েছিলেন কাবুল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী ও ফার্সী ভাষার শিক্ষক হিসাবে। তখন তার বয়স ছিল মাত্র তেইশ বছর। তিনি শান্তিনিকেতনে পড়ালেখা করেছেন। তখন শান্তিনিকেতনের কর্ণধার ছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। সেই সময়ে দেশ-বিদেশের অনেক বড় বড় পন্ডিত শান্তিনিকেতনে অধ্যাপনা করতেন। ফার্সী ভাষার বিখ্যাত পন্ডিত অধ্যাপক বগদানফ এবং আরেক ফরাসী পন্ডিত বেনওয়ার সহাচার্য সৈয়দ মুজতবা আলী পেয়েছিলেন। যে কারণে তার অন্যসব রচনার মতো ‘দেশে বিদেশেতে’-ও অনেক ফার্সী এবং উর্দু বয়াৎ-এর উদ্ধৃতি লক্ষ করা যায়।

আফগানিস্থানে অবস্থানকালে সেই তরুণ বয়সেই তার আচার-আচরণ অত্যন্ত পরিশিলীত ছিল। তার কথা এবং আচরণে পান্ডিত্য এবং সূক্ষ্ম রসবোধের পরিচয় পাওয়া যায়।
সৈয়দ মুজতবা আলী’র লেখায় সাবলীল বর্ণনা থাকে, আর থাকে রসাত্মক উক্তি। তার লেখার প্রতিটি পরতে সূক্ষ্ম রসবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। উপযুক্ত শব্দচয়ন, প্রাঞ্জল ও রসাত্মক বর্ণনা এবং আফগানিস্থানে তার বিচিত্র অভিজ্ঞতা ‘দেশে বিদেশে’ বইটি-কে পাঠকপ্রিয় করেছে।

মন্তব্য